1. swapanittefaq@gmail.com : dailyvision24.net :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রেলপথে মাদক পাচার রোধে অভিযান, তিতুমীর এক্সপ্রেস থেকে মাদক উদ্ধার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরদী ফুটবল একাদশকে সংবর্ধিত করল স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক রূপপুরের কমিশনিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, প্রতিবাদ জানালো এনপিসিবিএল মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল পাবনা-ঢাকা ট্রেনের ঈশ্বরদী জংশনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২০ ঈশ্বরদী নিউ এরা ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিতর্ক, বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি এনপিসিবিএল-এর এমডি

রোকেয়া দিবসে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের জরুরি দাবি

ষ্টায় রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশার নারীরা। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে বেগম রোকেয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্টস ফোরাম ও নারী মৈত্রী। স্থান ছিল জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকবর খান মিলনায়তন।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস, মোকবুলা পারভীন ও রোজী ফেরদৌসকে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বেগম রোকেয়া পুরস্কারে ভূষিত করে বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্টস ফোরাম।

বক্তারা বেগম রোকেয়াকে নারী অধিকার ও নেতৃত্ব বিকাশে পথিকৃত হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা নারীর মুক্তি, শিক্ষা বিস্তার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর দর্শনের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন কেবল জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়, বরং এটি নারীর অধিকার রক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আলোচনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ ও জনসমাগমস্থলে ২১ শতাংশ নারী পরোক্ষ ধূমপানের (Second-hand smoke) শিকার হন (গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোবাকো সার্ভে, ২০১৭)। এছাড়া, বাড়িতে বাবা, ভাই, স্বামী, সহকর্মী এবং গণপরিবহনের যাত্রীদের ধূমপানের কারণে নারীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। এতে হাঁপানি, স্তন ক্যানসার, ফুসফুস ক্যানসার ও গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির তথ্যমতে, প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা ধূমপায়ীর পাশে থাকলে নারীদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়।

তামাক ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত অসংক্রামক রোগ— যেমন হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যানসার ও কিডনি রোগ— দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। WHO Tobacco Atlas ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ১,৩০,১৩৫ জনের মৃত্যু হয়, যা দৈনিক প্রায় ৩৫৭ জনের মৃত্যুর সমান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর সভাপতি মাসুমা আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সম্পাদক নিলুফা চৌধুরী মনি।

নিজের বক্তব্যে নিলুফা চৌধুরী মনি বলেন,“নারীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার বাড়তে থাকা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তামাক কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী পরিকল্পিতভাবে নারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এছাড়া তামাক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত নারীরা বন্ধ্যাত্ব, কম ওজনের শিশু জন্ম, মৃত সন্তান প্রসব ও অকাল প্রসবের ঝুঁকিতে থাকেন।”

বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্টস ফোরামের সভাপতি ফাহমিদা আখতার বলেন,
“তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩৯,২০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে সরকার তামাক থেকে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, অথচ চিকিৎসা ও পরিবেশগত ক্ষতির সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ৮৪,০০০ কোটি টাকা। তাই এটি একটি জাতীয় মহামারি এবং অবিলম্বে আইন সংশোধনের মাধ্যমে শক্ত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

সভাপতির বক্তব্যে মাসুমা আলম বলেন,“বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে WHO-এর ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (FCTC) স্বাক্ষর করেছে। তবে সর্বশেষ WHO প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও তামাক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণে বাংলাদেশ এখনও সর্বোচ্চ মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু অগ্রগতি হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এখনো বাংলাদেশেই তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে তামাক ব্যবহার অনেকাংশে কমবে এবং এর ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব হ্রাস পাবে।”

আলোচনা সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের জন্য ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়—জনসমাগমস্থলে নির্ধারিত ধূমপান জোন বাতিল, তামাক পণ্যের প্রদর্শন ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, ই-সিগারেটের ক্ষতি থেকে তরুণদের সুরক্ষা, একক স্টিক সিগারেট ও বিড়ি বিক্রি নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির তথাকথিত কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং তামাক প্যাকেটে ছবি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা।

নারী মৈত্রীর অ্যান্টি-টোব্যাকো টিচারস ফোরামের আহ্বায়ক ডা. খালেদা ইসলাম এবং অ্যান্টি-টোব্যাকো মাদারস ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
error: Content is protected !!