1. swapanittefaq@gmail.com : dailyvision24.net :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রেলপথে মাদক পাচার রোধে অভিযান, তিতুমীর এক্সপ্রেস থেকে মাদক উদ্ধার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরদী ফুটবল একাদশকে সংবর্ধিত করল স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক রূপপুরের কমিশনিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, প্রতিবাদ জানালো এনপিসিবিএল মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল পাবনা-ঢাকা ট্রেনের ঈশ্বরদী জংশনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২০ ঈশ্বরদী নিউ এরা ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিতর্ক, বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি এনপিসিবিএল-এর এমডি

রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় সমন্বয়, জিওবি খাতে সাশ্রয় ১৬৬ কোটি টাকা

ষ্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭১ বার পড়া হয়েছে
Oplus_16908288
ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সে সময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা, এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, বর্তমানে ডিপিপি সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে, ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত নয় বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে চার ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন চার ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে দুই ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।
অন্যদিকে, ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
error: Content is protected !!