রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রসাটম তাদের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি “আইসব্রেকার অব নলেজ”-এর ৭ম আসরের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ ২২টি দেশের ১৪–১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে রসাটমের মিডিয়া উইং মঙ্গলবার ( ৫ মে) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।
প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দেশ থেকে নির্বাচিত বিজয়ীরা ২০২৬ সালের আগস্টে পারমাণবিক আইসব্রেকার জাহাজ 50 Let Pobedy (বিজয়ের ৫০ বছর)-এ চড়ে উত্তর মেরু ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়াটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে: প্রথম ধাপ: অংশগ্রহণকারীরা অনলাইনে নিবন্ধন করে বিজ্ঞানভিত্তিক একটি কুইজ সম্পন্ন করবে; দ্বিতীয় ধাপ: ওয়েবিনারের মাধ্যমে রসাটম -এর উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষ করে নিরাপদ আর্কটিক নেভিগেশনের উদ্ভাবন সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। এরপর অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করবে; তৃতীয় ধাপ: প্রতিটি দেশ থেকে সেরা ১০ জন ফাইনালিস্ট একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে নিজেদের ধারণা তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত ভিডিও জমা দেবে। “প্রতিযোগিতা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে https://goarctic.energy” এই লিংক ভিজিট করতে বলা হয়েছে।
রোসাটম-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ফর কমিউনিকেশনস, আলেক্সান্দ্রা ইউস্টাস বলেন, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র ভ্রমণের সুযোগ নয়: “অংশগ্রহণকারীরা ১০ দিন ধরে আর্কটিক অঞ্চলে শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সময় কাটাবে। এর ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত হবে, নতুন বন্ধু তৈরি হবেএবং একই সঙ্গে পৃথিবীর অন্যতম দুর্গম অঞ্চল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের অনন্য সুযোগ পাবে।
“রসাটম-এর সহায়তায় চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো বিজ্ঞান ও পারমাণবিক প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে তাদের ক্যারিয়ার গঠনে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা। গত ছয়টি আসরে বিশ্বের চার শতাধিক শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্কটিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। বর্তমানে রাশিয়াই একমাত্র দেশ, যারা পারমাণবিক শক্তি চালিত আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করছে। এটম ফ্লোট বিভাগের অধীনে পরিচালিত বহরে বর্তমানে ৮টি আইসব্রেকার জাহাজ রয়েছে।