ঘন কুয়াশার সাথে বইছে হিমেল বাতাস। যেকারণে ঈশ্বরদী ও আশেপাশের এলাকায় তীব্র শীত বিরাজ করছে। দুই দিন ধরে দুপুর পর্যন্ত সূর্য্যরে দেখা মিলছে না। সূর্য্যের তাপ না থাকার পাশাপাশি হিমেল বাসাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। শুক্রবার ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রী রেকর্ড হয়েছে। এদিকে ঘন কুয়াশার পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে বিশেষ করে রাতের ট্রেসগুলো গতি কমিয়ে চলাচল করছে। এতে কয়েকটি ট্রেনের শিডিউল বিপর্য্যয় ঘটেছে।
হিম বাতাসে ঠান্ডায় কাঁপছে এ জনপদের মানুষ। বৃহস্পতিবার রাতে স্টেশনে ভাসমান মানুষদের শীতের প্রকোপে দূর্ভোগ পোহাদে দেখা গেছে। ভোর থেকেই বেলা অবধি সূর্য্যের দেখা নেই। প্রয়োজন ছাড়া অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী-কর্মজীবী গরিব অসহায় মানুষ। এতে করে স্থবির হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদী অঞ্চলের জীবনযাত্রা। শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগের শেষ নেই খেটে খাওয়া মানুষের। কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। আবার কাজ পাওয়াও যাচ্ছে না। শুক্রবার রেলওয়ে মালগুদামে মালবাহী ট্রেন হতে মাল খালাসের জন্য শ্রমিকদের দুুপুর ১২টার দিকে কাজে যোগ না দিয়ে আগুন তাপাতে দেখা গেছে।
শ্রমিক হাসিবুল, রাশেদ জানায়, দুদিন ধরে কুয়াশা না থাকলেও মেঘলা পরিবেশ। বাতাসের কারণে শীতের মাত্রা বেড়ে গেছে। হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হয় আমাদের।
গৃহিনী হাফিজা বেগম জানান, সন্ধ্যার পর বাতাসের সাথে ঝরতে থাকা কুয়াশার পানি বরফের মতো ঠান্ডা। মাত্রাতিরিক্ত শীত অনুভূত হচ্ছে। রাতে একাধিক কম্বল ও লেপ নিলেও বিছানা বরফের মতো লাগে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েতে ট্রেন চলাচলে পূর্বনির্ধারিত গতি কমিয়ে দেওয়ায় সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী জংশন ও বাইপাস স্টেশন হয়ে চলাচলকারী প্রতিটি ট্র্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। প্রতিটি ট্রেনই ১ থেকে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। শুক্রবার সকালে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন প্রায় ১ ঘন্টা বিলম্বে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন অতিক্রম করেছে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের প্রকৌশলী-২ বীরমন্ডল বলেন, গতি কমিয়ে চলার কোন নির্দেশনা না থাকলেও ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে রাতের ট্রেনগুলো কিছুটা ধীরগতিতে চলাচল করছে।