1. swapanittefaq@gmail.com : dailyvision24.net :
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রাতভর অভিযানে উদ্ধার: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতি রেলপথে মাদক পাচার রোধে অভিযান, তিতুমীর এক্সপ্রেস থেকে মাদক উদ্ধার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরদী ফুটবল একাদশকে সংবর্ধিত করল স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক রূপপুরের কমিশনিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, প্রতিবাদ জানালো এনপিসিবিএল মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল পাবনা-ঢাকা ট্রেনের ঈশ্বরদী জংশনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২০ ঈশ্বরদী নিউ এরা ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ ঈশ্বরদীর মুরাদ এখনও অচেতন

ভিশন অনলাইস ডেস্ক:
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৪
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

ঈশ্বরদীর পিয়ারাখালি জামতলা এলাকার মুরাদ হোসেন (৪০) পারিবারের দৈন্যতা দুর করতে নিজ শহর ঈশ্বরদী ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে কাজ করতেন। স্বপ্ন ছিল ঢাকায় কাজ শিখে ঈশ্বরদীতে ফিরে নিজ এলাকায় একটি রেষ্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা করবেন। কিন্তু মাসাধিক সময় আগে ঢাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিজের জীবনই এখন সংকটাপন্ন। ইতোমধ্যেই তাঁর সব স্বপ্ন ভেঙে হয়েছে খান খান। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মুরাদ যদিও বেঁচে থাকেন তাহলে জীবনে আর কোনদিন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় মুরাদের পরিবারের লোকজন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

জানা যায়, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে মাসাধিক আগে রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গত ১৮ জুলাই গুলিবিদ্ধ হন মুরাদ। এরপর থেকেই তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তিনি বেঁচে থাকলেও আর কোনো দিন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় মুরাদের পরিবারের সবাই চোখে অন্ধকার দেখছেন। বাবা-মা এবং স্ত্রী মহুয়া মার্জিয়া রানী (৩৬), মেয়ে আয়েশা ইসলাম (১৯) ও ছেলে মেহরাব ইসলামকে (১২) নিয়ে সুখের সংসার ছিল তাঁর। মেয়েটি রাজধানীর মিরপুর আইডিয়াল গার্লস কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছেলে গুলশানের একটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। মুরাদের স্ত্রী মহুয়া বলেন, ‘আমরা কিভাবে বেঁচে থাকব তার কোনো উপায় দেখছি না।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঈশ্বরদীর মুরাদ হোসেন এখনও অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। গলা ও স্পাইনালকড গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের আইসিউ থেকে সম্প্রতি তাঁকে পোষ্ট অপারেটিভ-২ এর ১৮ নং বেডে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই নিবিড় চিকিৎসা চলছে, তবে মুরাদের শরীর থেকে দুটি গুলি বের করার পর তার শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা বলছেন তিনি বেঁচে থাকলেও তার স্বাভাবিক জীবনে ফেরা অনিশ্চিত। তাঁর শারিরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন স্বজনরাও।

নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক রেজাউল করিম জানান, গুলিবিদ্ধ মুরাদের শরীর থেকে দুটি গুলি বের করা হয়েছে, তাঁর স্পাইনালকড অকেজো হয়ে শরীর প্যারালাইজড হয়ে গেছে, সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবনে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

মুরাদের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ জুলাই রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তাঁর ছেলে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। রেস্টুরেন্টে চাকরি করে যা আয় হতো, তা দিয়ে মুরাদের সংসারটা চলত কোনোমতে। জমানো কোনো টাকা ছিল না। এই এক মাসে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের সহায়তায় চিকিৎসা চলেছে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখনও প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ছেলেমেয়ে দুটির পড়ালেখাও বন্ধ। মুরাদের বাবা তাঁর সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে অন্তর্বতী সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
error: Content is protected !!