ঈশ্বরদী পৌরসভায় অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বৃদ্ধির প্রতিবাদে সচেতন নাগরবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৯ জুন) বিকেলে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পৌরবাসীদের জিম্মি করে পৌর কর্তৃপক্ষ নতুন এ্যাসেসমেন্ট দেখা ও আপত্তি জানানোর কথা বলে মাইকিং করে। নগরবাসী এ্যাসেসমেন্টে হোল্ডিং ট্যাক্স কত টাকা ধার্য হয়েছে দেখার জন্য গেলে বলা হয়, বকেয়া ট্যাক্স পরিশোধ না করলে নতুন এ্যাসেসমেন্ট দেখানো হবে না। বকেয়া পরিশোধের পর দেখা যায় নতুন এ্যাসেসমেন্টে অস্বাভাবিকভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এই অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, পৌরসভার বর্তমান মেয়র ইসাহক আলী মালিথা অযাচিতভাবে, এক নায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বৃদ্ধি করেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনে নভিশ্বাস ওঠেছে। এই অবস্থায় অস্বাভাবিক হারে পৌরকর বৃদ্ধি যেন মরার উপর ফাঁড়ার ঘা। পৌর নাগরিকের সমস্যা দূরীকরণ ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিকরণে কাজ না করে কর বৃদ্ধি করা জুলুমের সামিল। এরপরও দাবি মানা না হলে পৌরসভা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে মানববন্ধনে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পাকশী রেলওয়ে ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাজিবুল আলম ইভান। সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক রেজাউল করিম ফেরদৌস এবং সুলতান মাহমুদ খান। বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান সরদার, দৈনিক উত্তর জনতার সম্পাদক ও প্রকাশক ববি সরদার, সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ভিপি আসাদুর রহমান বিরু, জাতীয় পার্টির পাবনা জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক রাগিব আহসান রেজভী, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান, ছাত্রদলের নেতা রফিকুল ইসলাম নয়ন, সাংবাদিক রিফাজ বিশ্বাস লালন প্রমূখ।
এদিকে মানবন্ধনের প্রতিবাদে সোমবার (১০ জুন) সকালে পৌরসভায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মেয়র ইসাহক আলী মালিথা। তিনি বলেন, বিএনপি’র একটি অংশ পৌরসভার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতেই এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ্যাসেসমেন্ট দেখানোর জন্য মাইকিং করে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় প্রসংগে মেয়র বলেন, এক্ষেত্রে কৌশল করে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। তানাহলে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হয়না।
দৈনিক উত্তর জনতার সম্পাদক ও প্রকাশক ববি সরদার বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মানববন্ধন হয়নি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সকলেই পৌরসভার নাগরিক। ট্যাক্সের বোঝা সকলের ঘারেই অস্বাভাবিকহারে চেপেছে। ভূক্তভোগীরা সকলেই দলমত নির্বিশেষে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।