ঈশ্বরদীতে লাগাতার তাপপ্রবাহে চরম দুর্ভোগে জনজীবন। ঘরে-বাইরে কোথায়ও নেই স্বস্তি। বাতাসে বইছে হল্কা। টানা তীব্র ও অতি তীব্র দাবদাহে পুড়ছে ঈশ্বরদী। খাঁ খাঁ রোদে ঈশ্বরদী শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে লোক চলাচল কমে গেছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক জানান, সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ঈশ্বরদীতে ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রী অতি তীব্র তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। চলতি মৌসুমে এটাই ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
ঘরে-বাইরে অসহ্য গরম। ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।
অতি তীব্র তাপমাত্রার রেকর্ডে পুড়ছে ঈশ্বরদী জনপদ। গত কয়েকদিন ধরেই বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাস্পের পরিমাণ কম থাকায় ঘরের বাইরে বের হলেই রোদের প্রখরতায় যেন শরীর পুড়ে যাচ্ছে।
তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শীতপ্রধান এলাকার বিদেশি নাগরিকেরা। তীব্র তাপপ্রবাহ উপেক্ষা করেই তাঁরা দিনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিদেশিদের কর্মস্থল ও আবাসিক এলাকার বাইরে ঘোরাফেরা করতে এখন খুব কম দেখা যাচ্ছে। সাধারণত: সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঈশ্বরদী বাজারে বিদেশীদের ভীড় থাকে। কিন্তু তীব্র গরমে বিদেশিদের দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিনে রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত বিদেশিদের আবাসিক গ্রিনসিটি এলকায় এখন ভিন্ন চিত্র। যেখানে শত শত বিদেশি নাগরিকের পদচারণায় মুখর থাকে তা জনমানবশূন্য। গ্রিনসিটির আশেপাশের দোকানগুলোও বন্ধ। প্রকল্পের শ্রমিকরা জানান, গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। তীব্র তাপের মাঝেই কাজ করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা নিজেরা তাপ সইতে কিছুটা অভ্যস্থ হলেও বিপদে পড়েছেন প্রকল্পে নিয়োজিত রুশসহ অন্যান্য বিদেশী নাগরিকেরা।
ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে তীব্র গরমে যাত্রীদের হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে। প্লাটফর্মে সীমিত সংখ্যক ফ্যান থাকায় ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাপপ্রবাহ দীর্ঘায়িত হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। বিশেষ করে বোরো ধান ও লিচুচাষিরা চলমান আবহাওয়ায় বেশি শঙ্কিত।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, তীব্র খরা পরিস্থিতি বিরাজমান। চলতি বোরো ধানের জমিতে সবসময় ২-৩ ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। পাশাপাশি বোরো ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি পাঁচ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। লিচুর বিষয়ে তিনি বলেন, লিচু বাগানে সেচ দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দিনে সেচ দেওয়া যাবে না। রাতে দিতে হবে। এখন সারের প্রয়োজন নেই। তাপমাত্রা কমলে সার প্রয়োগ করতে হবে।
উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মাহাবুব ইসলাম জানান, পানির স্তর ৩৫ ফুটেরও বেশী নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। বৃষ্টিপাত হলে পানির স্তর স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বৃষ্টিপাত না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, সোমবার ২৯ এপ্রিল চলতি বছরে ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।