জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ঈশ্বরদীতে খায়রুল ইসলাম (৪২) নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় এলাকায় দুই গ্রুপের মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ঈশ্বরদী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মারামারির ঘটনায় দু’পক্ষের আরো ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহত খায়রুল ইসলাম চরগড়গড়ি গ্রামের নছিম প্রামানিকের ছেলে ও সাহাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন।
নিহতের ভাতিজা আলিফ হোসেন বলেন, লীজের জমি সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে চরগড়গড়ি গ্রামের হুসেন আলী মাষ্টারের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম, সামাদের ছেলে নুরুল ইসলাম, নায়েব আলীর ছেলে শাহীন ও ইয়ার আলী মৌলভীর ছেলে মজনুসহ ৩০-৩৫ জনের গ্রুপের সাথে একই গ্রামের আনছার আলী প্রামানিকের ছেলে সাজু প্রামানিকের গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন দা দিয়ে খায়রুল ইসলামের ঘাড়ের নিচে কোপ দেয়। পরে তার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে লাঠি দিয়ে গুরুতর আহত করে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
চরগড়গড়ি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম সরদার জানান, জমি সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে কয়েকদিন ধরে দু’পক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকালে সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। বিকাল ৪টার দিকে আলহাজ্ব মোড়ের পশ্চিমপাশে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ১৫ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, মসলেম মন্ডলের ছেলে আব্দুল মজিদ মন্ডল, জলিল ফকিরের ছেলে জামাত আলী ফকির, ইউসুফ আলীর ছেলে পিন্টু, শাহাদত হোসেনের ছেলে জমির উদ্দিন, জলিল ফকিরের ছেলে নাছির উদ্দিন ও রাসেল, আনছার প্রামানিকের ছেলে সাজু প্রামানিক, হানিফ হোসেনের ছেলে রব্বে হোসেন, সাত্তার হোসেনের ছেলে সানাউল্লাহ মন্ডল, হিরাজ সরদারের চেলে কহর আলী সরদার, ইয়ারুল সরদারের ছেলে আলিম সরদার, হালিম মন্ডলের ছেলে আলিম মন্ডল, মোজাম প্রামানিকের ছেলে জিল্লু প্রামানিক ও ইছাহক হোসেন। আহতদের ঈশ্বরদী, পাবনা ও রাজশাহী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে। পুলিশ মরদেহ হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।