1. swapanittefaq@gmail.com : dailyvision24.net :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রেলপথে মাদক পাচার রোধে অভিযান, তিতুমীর এক্সপ্রেস থেকে মাদক উদ্ধার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরদী ফুটবল একাদশকে সংবর্ধিত করল স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক রূপপুরের কমিশনিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, প্রতিবাদ জানালো এনপিসিবিএল মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল পাবনা-ঢাকা ট্রেনের ঈশ্বরদী জংশনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২০ ঈশ্বরদী নিউ এরা ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিতর্ক, বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি এনপিসিবিএল-এর এমডি

পানামা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরছে হাজার হাজার কলাগাছ

ষ্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মার্চ, ২০২৪
  • ২৩৪ বার পড়া হয়েছে

ঈশ্বরদীতে কলা গাছে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পানামা রোগ। এরোগে আক্রান্ত হয়েছে শত শত হেক্টর জমির কলা গাছ। যে স্বপ্ন নিয়ে চাষিরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে কলার আবাদ করেছিলেন, তাদের চোখের সামনেই মরছে হাজার হাজার কলা গাছ। স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় কাঁদছেন চাষিরা। ইতোমধ্যেই কলা আমদানি কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। রমজানে ছোট সাইজের এক হালি কলা ৩০ টাকার নীচে মিলবে না।

কৃষি কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়, পদ্মার চর জুড়ে ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে কলার চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নেই ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে কলা আবাদ হয়েছে। কলাচাষ লাভবান হওয়ায় ইউনিয়নের কামালপুর, কৈকুন্ডা, শান্তিনগর, ডিগ্রীর চর, দাদাপুর, লক্ষীকুন্ডা, চরকুড়–লিয়ার চর জুড়ে কৃষকরা এখন অন্য ফসলের আবাদ না করে এবারে শুধু কলার চাষ করেছেন।

কলা চাষিরা জানান, অজ্ঞাত ভাইরাস কলা গাছে আক্রমণ করেছে। এ ভাইরাস প্রথমে কলাগাছের পুরাতন পাতাতে আক্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে উপরের দিকে ওঠে কচি পাতাকে আক্রমণ করে। এতে কলাপাতা বাদামী বর্ণ হয়ে শুকিয়ে যায়। কিছুদিন পর পাতা ঝরে পড়ে। ভাইরাসের আক্রমণে কলাগাছের গোড়া বা কান্ড হলদেটে থেকে লালচে আঁকা-বাঁকা দাগ হয়। পরে গোড়ার নিচে ও ওপরের অংশ পঁচন ধরে গাছ মরে যায়। গাছ কেটে ফেলার পর ভেতরের সাদা অংশ কালচে দেখা যায়। এবারে হাজার হাজার কলা গাছ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়াও এ ভাইরাসে আক্রান্ত কলার ওপরের অংশে কালচে দাগ হয়। কলা অপোক্ত ও স্বাদহীন হয়। এরোগ থেকে রক্ষা করা না গেলে শত শত চাষি লোকসান থেকে বাঁচতে কলা চাষ বন্ধ করে দিবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পদ্মা তীরবর্তী লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল জুড়ে ৫-৬ বছর আগে শুরু হয় কলা চাষ। চাষিরা ব্যাপক লাভবান হওয়ায় পর্যায়ক্রমে এ ইউনিয়নে কলা চাষবাদ অনেক বেড়েছে। চরাঞ্চলে কলার চাষাবাদ বদলে দিয়েছে এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি। সকল চাষি আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতি বিঘায় ৩৫০ থেকে ৪০০ কলার চারা রোপন করা হয়। জমির খাজনা, সার-বীজ ও চাষাবাদ খরচে প্রতিটি কলা গাছে খরচ হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। এখানকার প্রতিটি কলার কাঁদি বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাভ হয়। এখানে বেশী চাষ হয় সরবি কলা। এছাড়াও মেহেরসাগর, অমৃতসাগর ও মন্দিরা কলার চাষ হয়। এছাড়া কলা গাছের মুচি ও কলার ভেতরের অংশ সবজি হিসেবে বাজারে বেচাকেনা হয়।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, রোগাক্রান্ত কলা গাছ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। পানামা রোগ মুক্ত চারা সংগ্রহ করে রোপন করতে হবে। ২-৩ বছর পর কলা চাষ বন্ধ রেখে ওই জমিতে অন্য ফসল ফলাতে হবে। এছাড়াও জমিতে চুন প্রয়োগ করে মাটির জৈব শক্তি বাড়ালে পানামা রোগ থেকে কলা গাছ মুক্ত রাখা যেতে পারে।
চরকুড়লিয়ার কলাচাষি বাসেত আলী বলেন, চার বিঘায় কলাচাষ করেছি। প্রতিটি গাছ ভাইরাসের আক্রমণে মরে যাচ্ছে। খুব যত্মে লাগানো কলা গাছ চোখের সামনে মরে যাওয়া দেখে খুব কষ্ট লাগছে।
চরপ্রতাপপুর গ্রামের চাষি আব্দুল হালিম শান্তিনগর চরে ১২০ বিঘা জমিতে কলার চাষ করেছেন। তিনি জানান, এগার বছর ধরে কলার আবাদ করছি। শান্তিনগর চরেও পাঁচ বছর ধরে আবাদ করছি। প্রতি বছরই কলা চাষে লাভ হয়। এবার ভাইরাসের কারণে কলা গাছ মরে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও সার-কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে লোকসানের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

চাষি হারুন শেখ বলেন, কলা গাছের গুড়ায় পঁচন ধরে ও মাঝের কচি পাতা শুকিয়ে গেলে বোঝা যায় ভাইরাস আক্রমণ করেছে। মাটি দূষণের কারণে কলা গাছে ভাইরাসের আক্রমণ হয়েছে বলে আমার মনে হয়। ভাইরাসের আক্রমণে আমার কলাবাগানের বেশির ভাগ কলাগাছ ফেটে গেছে। বাধ্য হয়ে এসব গাছ কেটে দিয়েছি। আগে লাভবান হলেও এবার ভাইরাসের কারণে লোকসান গুনতে হবে। ভাইরাসের আক্রমণ ঠেকাতে না পারলে আগামীতে কলা চাষ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

চরকুড়ুলিয়ার স্কুল শিক্ষক ও কলা চাষি সেলিম রেজা বলেন, ২০২৩ সাল থেকে কলা বাগানে ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়। এবারে শতকরা ৭০ ভাগ কলা বাগানে ভাইরাস আক্রমণ করেছে। ভাইরাসের আক্রমণ থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য উপজেলা কৃষি অফিস সরেজমিনে কলা বাগানে এসে ভাইরাস প্রতিকারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিলে তারা ব্যাপক লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেতো।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শামীমা খাতুন বলেন, ভাইরাসের আক্রান্ত কলা গাছের পাতা কেটে পুড়িয়ে ফেলা ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছি। স্থানীয় কৃষি অফিস কৃষকদের এ ভাইরাস সম্পর্কে কোনো পরামর্শ দেয়নি অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি কলা চাষির দ্বারে দ্বারে গিয়ে পরামর্শ দেওয়া সম্ভব নয়। যারা পরামর্শ চেয়েছেন তাদের দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার বলেন, পানামা রোগে আক্রান্ত কলা গাছ উপড়ে ফেলতে হবে। সবসময় চেষ্টা করতে হবে ভাইরাস মুক্ত কলা চারা লাগানো তাহলে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রা পাওয়া যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
error: Content is protected !!