মাঘের শেষে শীত বিদায় নেওয়ার প্রাক্কালে আবার ফিরে এসেছে। এতে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপাকে মানুষ বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মাসাধিক সময় ধরে চলা তীব্র শীতের পর বিগত সপ্তাহখানেক আগে তাপমাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু গত ৮ ফেব্রুয়ারী থেকে তাপমাত্রার পারদ আবার নামতে শুরু করেছে। ৮ ফেব্রুয়ারী ১০.৫ ডিগ্রী, ৯ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ৮.২ ডিগ্রী, ১০ ফেব্রুয়ারি ১০.২ ডিগ্রী এবং ১১ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকালে ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে হয় ১১.২ ডিগ্রি।

পদ্মা নদী বেষ্টিত ঈশ্বরদী এলাকায় আবারো শীতের প্রকোপ বেড়েছে। দিনের আকাশ পরিষ্কার ও সূর্যের আলো থাকলেও উত্তরের হিমেল বাতাসে হাড়কাঁপানো শীতে আবরো বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগ । চরাঞ্চলের মানুষ এবং নিম্নবিত্ত ও দিনমজুরদের কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ভর্তিকৃত রোগী ছাড়াও রবিবার ( ১১ ফেব্রুয়ারী) সকালে হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রায় ছয় শত রোগী চিকিৎসা গ্রহন করেছে। এসব রোগীর বেশীরভাগই জ্বর ও ঠান্ডায় আক্রান্ত বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, শীত মৌসুমে ডিসেম্বর থেকেই এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ দেখা দেয়। জানুয়ারি থেকেই দেখা দেয় টানা শৈত্যপ্রবাহ। অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রীর মধ্যে ওঠানামা করে। প্রায় দুই মাস অব্যাহত তীব্র শীতের পর গত ৩১ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা একটু একটু করে বাড়ছিল। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবারো তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আসমা খান জানান, হাসপাতালে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তরা ভীড় করছেন। কোন বেড ফাঁকা নেই। বেড না পেয়ে বাড়ি থেকে বিছানাপত্র নিয়ে এসে নীচে ও করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়ো:বৃদ্ধের সংখ্যা বেশী জানিয়ে তিনি বলেন, নানা বয়সের মানুষ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। সামর্থ্যবানরা ক্লিনিক ও প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার ডাক্তারদের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন। ঠান্ডা লাগা থেকে সামন্য জ্বর হলেই এবারে তা টাইফয়েডের দিকে গড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, জানুয়ারির শুরু থেকেই তাপমাত্রা নামতে শুরু করে। ৩১ জানুয়ারি তাপমাত্রা একটু বেড়ে ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে ওঠে। তবে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আবার তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে থাকে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম প্রিন্স জানান, উপজেলায় এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৩৯টি কম্বল শীতার্তদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে।