পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় সড়ক ও মহাসড়কে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা। বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণহানি এবং আহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে মোট ১৫৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন। পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য থেকে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে ট্রাক, বাস, অটোরিকশা, ভটভটি ও মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন নতুন আইন প্রণয়ন ও অভিযান পরিচালনার পরও সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে না। ট্রাফিক আইন অমান্য এবং অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানো যেন এখন অনেক চালকের কাছে স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদী-পাবনা, দাশুড়িয়া-মূলাডুলি, দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া ও দাশুড়িয়া-পাবনা মহাসড়কে প্রতিনিয়ত যানবাহনের চাপ বাড়ছে। যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল অধিক গতিতে চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক চালক এখনও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলছেন না। শুধু মহাসড়ক নয়, গ্রামীণ সড়কগুলোতেও নিয়মিত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অধিকাংশ চালক ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।
দাশুড়িয়ার সনি পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের মালিক আবুল হাশেম বলেন, “যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সড়ক সম্প্রসারণে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ডিভাইডার নির্মাণ জরুরি। পাশাপাশি বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মীর আমিরুল ইসলাম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। অনেক দুর্ঘটনাই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।”
পাকশী হাইওয়ে থানার ইনচার্জ (এসআই) মো. নান্নু খান বলেন, “ট্রাফিক আইন অমান্য, চালকদের বেপরোয়া মনোভাব এবং অতিরিক্ত গতির কারণে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটি, সড়কের খানাখন্দ, অপ্রশস্ত সড়ক, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা বা অনীহা এবং লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকদের কারণেও দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের বড় একটি অংশ তরুণ ও যুবক। তাদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ গতিতে মোটরসাইকেল চালান, ফলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার তুলনামূলক বেশি।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কঠোর আইন প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।