বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে কয়েক দিন ধরে ঈশ্বরদী শহরে দফায় দফায় মিছিল, ইট-পাটকেল নিপে, ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে রাস্তায় পড়ে থাকা ইটের টুকরো, পাথর, পোড়া কাঠ-টায়ারের ছাই ছাড়াও পলিথিন, প্লাষ্টিকের বোতলসহ ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সড়কে সচেতনামূলক লেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ও বুধবার দুই দিন ধরে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়ক আলহাজ্ব মোড় থেকে রেলগেট, স্টেশন রোড, কলেজ রোড পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কের থানার সামনে সড়কে ১২ জন, শহরের স্টেশন রোডে ৮ জন শিক্ষার্থী সড়ক পরিস্কার করছেন। এছাড়াও শহরের চাঁদ আলী মোড় ও কলেজ রোড এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক পরিস্কার কাজে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের কেউ রাস্তা ঝাড়ু– দিচ্ছেন, কেউ ইটের টুকরো ও পলিথিন কুড়িয়ে বস্তা ও ডাস্টবিনে ফেলছেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা কাজ করে শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক পরিস্কার করেন তারা।
সড়ক পরিস্কার কাজে নিযুক্ত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব আনাম বলেন, দেশতো আমাদের, পরিস্কার রাখার দায়িত্বও আমাদের। নতুন প্রজন্মকে দেশ পরিস্কারসহ সকল জঞ্জাল অপসারণের দায়িত্ব নিতে হবে।
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সঞ্চয় চৌধুরি বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই ঈশ্বরদী শহরের সড়ক পরিস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের সড়কে কাজ করছি। সড়ক পরিস্কার পর আমরা সড়কে সচেতনতামূলক লেখা লিখবো। যাতে সবাই সড়ক চলাচলের সময় এসব সচেতনমূলক কথা অনুসরণ করে। সবাই আমরা সচেতন থাকলে দেশ ও দেশের মানুষ ভালো থাকবে।
পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানান, আমরা ঈশ্বরদী শহরটিকে পরিস্কার করছি। এখন থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরা পরিস্কারের কাজ করলেই হবে না পাশাপাশি সকল মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং নিদিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে। যেখানে যেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না।