তিন বছরে ঈশ্বরদীতে সরিষার চাষ বেড়ে হয়েছে প্রায় তিনগুণ। চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক। গত বছর স্থানীয় বাজারে সরিষার ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে। ভোজ্য তেলের আমদানি কমাতে সরকার তিন বছর মেয়াদি একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। এজন্য কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরকারি প্রণোদনা দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ফলে উপজেলায় এ বছর ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, আমান ধান কাটার পর সরিষার আবাদ শুরু হয়। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সরিষার বীজ বপন করা হয়। মার্চের প্রথম থেকে সরিষা ঘরে তোলা শুরু হয়। এক বছরের ব্যবধানে ৫১০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হচ্ছে।
মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর মুলাডুলি, লক্ষীকুন্ডা, সাহাপুর, সলিমপুর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে সরিষার আবাদ। মাঠ হয়ে উঠেছে হলুদ রঙে। কোনো কোনো সরিষা গাছে ফুল ফুটেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি হবে বলে কৃষকেরা মনে করছেন। কৃষকরা সাধারণত ৬টি জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। উচ্চফলনশীল সরিষা গুলোর মধ্যে রয়েছে বারি-৯, বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বিনা-৯ এবং টরি-৭ জাত। সরিষার ক্ষেত পরিচর্যার কাজে কৃষকরা ব্যস্ত।
দাশুড়িয়ার নওদাপাড়ার কৃষক শহিদুল ইসলাম সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। আমন ধান কাটার পর মাঘ, ফাল্গুন দুই মাস জমি পতিত না রেখে সেই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে সরিষার আবাদ করেছেন। এতে বাড়তি আয় হবে। তাছাড়া সরিষা আবাদে তেমন শ্রম দিতে হয় না, খরচও কম। এখন দামও ভালো পাওয়া যায় বলে তিনি জানিয়েছেন।
মুলাডুলির কৃষক হেলাল শেখ জানান, তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করে যে লাভ হয়, তা অন্য ফসলের চেয়ে বেশি। বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি, গাছও খুব ভালো হয়েছে। মাঠের চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, গতবারের চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন রায় জানান, সরিষা লাভজনক ফসল। আমন কাটার পর সরিষা আবাদ করলে প্রতিবিঘায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে ৪ মণ, জমি তৈরি করে আবাদ করলে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদিত হয়।
ঈশ্বরদী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, সরিষার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উচ্চফলনশীল জাতের বীজ ও সার মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ করা হয়। এ কারণে আগ্রহী হয়ে কৃষকরা সরিষা আবাদে ঝুঁকেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার বলেন, প্রতি বছর সরিষার আবাদ বাড়ছে। তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছরও সরিষার আবাদ ভালো হবে। লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছরই আবাদী জমির পরিমাণ বাড়ছে। গত বছর ১ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এ বছর বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমি। তিনি জানান, মাঠে উচ্চফলনশীল বারি-১৪ ও বারি-১৭ এবং বারি-১৮ জাতের সরিষা আবাদ বেশী। এই জাতের তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং ফলনও অনেক বেশী। আমরা চেষ্টা করছি সব ধরণের ফসলের আবাদ দ্বিগুণ করার জন্য। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সময়মত কৃষকদের কৃষি বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।