ঘন কুয়াশা, হিমশীতল বাতাস আর হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে ঈশ্বরদীবাসী। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে রাত থেকে শুরু করে সকাল ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টির ফোঁটার মতো শিশির পড়ছে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের।
শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বললেও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে পরিবেশ তীব্র শৈত্যপ্রবাহকে হার মানিয়েছে।
এদিকে রাত ও দিনে তাপমাত্রা প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় অনেক বেশি ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে । মানুষ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। প্রচণ্ড শীতে কাজে বের হতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছেন শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ।
সকাল সাড়ে নয়টটার দিকে মালগুদাম এলাকায় দিনমজুর আতিয়ার রহমান (৫২) বলেন, ‘ঠান্ডায় অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। হাতে তেমন টাকা- পয়সা না থাকায় শীতের কাপড় কিনতে পারিনি। খুব কষ্ট করে দিন কাটাতে হচ্ছে। দিনের বেলায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি।’
নিউকলোনী রেল বস্তির জোমেলা খাতুন (৪২) বলেন, ‘শীতের জন্য কাজ করা যাচ্ছে না। গরিব মানুষ এই শীতে কেমন করে বাঁচবো আল্লাহই জানে।’
শীতের দাপটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা। জীবিকার তাগিদে হাড় কাঁপানো শীতকে উপেক্ষা করে তাদের কাজের সন্ধানে বের হতে হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাজের সন্ধানে এসে দিন মজুররা বেকার বসে আছেন। কাজ না পেয়ে কর্মহীন থাকতে হচ্ছে তাদের।
এরইমধ্যে জমে উঠেছে রেলওয়ে সুপার মার্কেটে শীত বস্ত্রের বেচাকেনা। রেলওয়ে সুপার মার্কেটের শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছে নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঈশ্বরদী বাজারে রেলওয়ে সুপার মার্কেট শীত কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় করছে ক্রেতারা। পাশাপাশি বাজারের বিভিন্ন শপিংমল ও বিপণীবিতান গুলোতেও বিক্রি বেড়েছে শীতের পোশাক। ভ্যানে করেও বিক্রি হচ্ছে শীতের পোশাক। দোকানগুলোতে রয়েছে ট্রাউজার, চাদর, জ্যাকেট, সোয়েটার, উলের টুপি, মাফলার, কোট, কান টুপি, মোজাসহ অনেক রকমের শীতের পোশাক।