ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের রেকর্ড থেকে জানা যায়, শনিবার (১৩ জানুয়ারি) চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রূপসা এক্সপ্রেস দুপুর ২টায় যাত্রাবিরতি থাকলেও স্টেশনে আসে রাত ৭টা ০৫ মিনিটে । শুক্রবার (১২ জানুয়ারী) ঢাকা থেকে খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্র্রেস ট্রেনটির যাত্রাবিরতি ছিল ১টা ২০ মিনিটে। অথচ স্টেশনে প্রবেশ করে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে। খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন বেলা ১১টায় যাত্রাবিরতি থাকলেও ২টা ৩০ মিনিটে প্রবেশ করে। ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন আসে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট দেরিতে। এছাড়া সাঁগরদাড়ি এক্সপ্রেস, সীমান্ত এক্সপ্রেস, রাজশাহীগামী ঈশ্বরদী কমিউটার, টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে চলাচল করছে।
বাইপাসের স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় সব ট্রেনই বিলম্বে চলাচল করছে। বেশি বিলম্বে চলছে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেন। ঈশ্বরদী জংশনের স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট মহিবুর ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শনা অনুযায়ী টেনের গতি কমিয়ে দিয়ে চলাচল করায় গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে নাশকতা বেড়ে যাওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় ব্রডগেজ লাইনে ঘন্টায় ৯০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করে থাকে। সেটি কমিয়ে ৭৫ কিলোমিটার করা হয়েছে। রাতের বেলায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে চললেও কমিয়ে ৫০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়াও রাতে ‘ট্রেন পাইলটিং পদ্ধতি’ চালু করা হয়েছে। অর্থাৎ রাতের একটি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট আগে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ওই রুটে পাঠানো হয়। রেল ইঞ্জিনের কাজ হলো ট্রেন লাইন নিরাপদ কি-না সেটি পরীক্ষা করা। এটি সপ্তাহখানেক ধরে চলছে। তবে আজ ( ১৩ জানুয়ারী) রাতেই পাইলটিং পদ্ধতি শেষ হয়ে যাবে। এরইমাঝে দিনে চলাচলকারী ট্রেনের গতি কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাতের ট্রেনেরও গতি বাড়ানো হবে। গতি বেড়ে গেলে আর শিডিউল বিপর্যয় থাকবে না বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, এরইমধ্যে ট্রেনের গতি বাড়ানো হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশার কারণে রাতের ট্রেনগুলো এখন ধীরগতিতে চলাচল করছে।