1. swapanittefaq@gmail.com : dailyvision24.net :
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
রেলপথে মাদক পাচার রোধে অভিযান, তিতুমীর এক্সপ্রেস থেকে মাদক উদ্ধার জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরদী ফুটবল একাদশকে সংবর্ধিত করল স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্ট খাল-বিলে পানি নেই, পাট পচাতে বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক রূপপুরের কমিশনিং নিয়ে বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনা, প্রতিবাদ জানালো এনপিসিবিএল মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু স্মরণে নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ঢল পাবনা-ঢাকা ট্রেনের ঈশ্বরদী জংশনে স্টপেজের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ২০ ঈশ্বরদী নিউ এরা ফাউন্ডেশনে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প ও ছানি অপারেশন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: বিতর্ক, বাস্তবতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি এনপিসিবিএল-এর এমডি

ঈশ্বরদীর আমজাদ নিজেই লিফট তৈরী করলেন

ষ্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

নেই উচ্চতর ডিগ্রি। বুয়েট কিংবা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন না করেই নিজস্ব প্রযুক্তিতে লিফট বানিয়েছেন ঈশ্বরদীর আমজাদ হোসেন। আমজাদ হোসেনের বানানো লিফট বিদ্যুৎ না থাকলে স্বয়ংক্রীয়ভাবে আইপিএসে চলে। পেশায় তিনি ইলেকট্রিক টেকনিশিয়ান। নিজের তিনতলা ভবনে ওঠানামার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে লিফটটি তৈরি করেছেন। ষাটোর্ধ্ব আমজাদ হোসেন ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে। পৌর শহরের ডাকবাংলোর সামনে দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীদের আমজাদ হোসেনের লিফটের দিকে তাকিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে থাকেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে লিফট বানানোর অনুভূতি বর্ণনা করে আমজাদ হোসেন (৬৩) বলেন, ‌‘আমি পেশায় একজন ইলেকট্রিক টেকনেশিয়ান। পাবনা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থেকে দুই বছরের ইলেক্ট্রিক্যালে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৪০ বছর ধরে কাজ করছি। আইপিএস, চার্জার লাইট, বৈদ্যুতিক মোটর, ব্যাটারির চার্জার, ফ্রিজের ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্স সামগ্রী তৈরি করছি। আগে টিভি ও ফ্যান মেরামতের কাজও করেছি। বছর তিনেক আগে পৌর শহরের ডাকবাংলোর সামনে ১ শতক জমিতে ইলেকট্রিক্স সামগ্রী বেচাকেনার জন্য তিনতলা ভবন নির্মাণ করি। দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ওঠানামার পেছনে সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে ক্রেতাদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় ওঠানামা করতে অসুবিধা হয়। এছাড়া দোকানের মালামাল ওঠানো ও নামানোতে বিড়ম্বনা দেখা দেয়। এই বিড়ম্বনা দূর করতে নিজেই লিফট তৈরির পরিকল্পনা করলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে বিষয়টি এতো সহজ ছিল না। প্রায় ৩ মাস চিন্তাভাবনা করে লিফট তৈরির জন্য কন্ট্রোল বক্স, ১ টন ওজন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গিয়ার বক্স, এক কিলোওয়াটের আইপিএস, এক হর্সের মোটর তৈরি করি। এরপর স্টিলের ওয়্যারের, মেটাল স্ট্রাকচার ও কেবিনের জন্য রিলিকা গ্যাস দিয়ে লিফট তৈরি শুরু করি। ৩ মাসের চেষ্টায় দোকানের সামনে তিনতলায় ওঠানামার জন্য লিফট তৈরি করি। ব্যবসায়িক এই ভবনে চারতলা পর্যন্ত ওঠানামার করতে লিফট তৈরি করেছি। এখন পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলাতে চলাচল করছে লিফটটি।’

লিফটের বর্ণনা দিয়ে এই উদ্ভাবক বলেন, ‘লিফটে উঠে সুইচ চাপলে দ্বিতীয়তলায় যাবে। সেখানে নামার প্রয়োজন না হলে আরেকটি সুইচ টিপে তৃতীয়তলায় ওঠা যাবে। একইভাবে আবার তৃতীয়তলা থেকে নিচে নামতে হবে। একসঙ্গে তিনজনের বেশি মানুষ এই লিফটে যাতায়াত করতে পারবে না। ১ টন ওজনের মালামাল ওঠানামা করানো যাবে। বিদ্যুৎ না থাকলে লিফট চালাতে জেনারেটরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমার এই লিফট আইপিএস দিয়েও চালানো যাবে। লিফট বানাতে যেসব ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, সবই আমার নিজের তৈরি। লিফটে ব্যবহৃত কন্ট্রোল তৈরি করতে প্রায় ৩-৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এটি আমি খুবই স্বল্প খরচে তৈরি করেছি। চারতলা ভবনের একটি লিফটে অন্তত ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। সেখানে আমার খরচ হয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকা।’

আমজাদ হোসেন বলেন, ‘নিজের ব্যবহারের জন্য লিফট তৈরি করে পরীক্ষামূলকভাবে চালাচ্ছি। এটি নিরাপদ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। কিভাবে আরও আধুনিক করার যায় সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছি। এ লিফট আরও উন্নত করতে বিশেষজ্ঞ ইলেকট্রিক প্রকৌশলীদের পরামর্শ পেলে ভালো হয়। স্বল্প খরচে তিন-চারতলা ভবনে ব্যবহারের জন্য নির্মিত এই লিফট বাণিজ্যিকভাবে তৈরির জন্য যদি সরকার অনুমতি দেয় তাহলে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে এটি ব্যবহার করতে পারবে।’

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘ আমজাদ হোসেন দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের বুদ্ধিমত্তায় লিফট তৈরী করেছেন। এটি ভালো উদ্যোগ। তার এই উদ্ভাবন কিভাবে বাণিজ্যিকীকরণ করা যায়, আরো উন্নত করা যায়, এবিষয়ে সরকারের উচ্চ পর‌্যায়ে কথা বলবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
error: Content is protected !!