পশ্চিম রেলের পাকশী বিভাগে চিলাহাটি-ঈশ্বরদী-খুলনা রুটের আন্তঃনগর রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা পুরাতন কোচ নিয়ে চলাচল করছে। চলার পথে প্রায়ই হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি। ট্রেন থামিয়ে স্টেশনেই মেরামত করা হচ্ছে। এ অবস্থায় খুলনা হতে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি হতে খুলনা রুটে রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন আপ ও ডাউনে ঈশ্বরদী জংশনের ওপর দিয়ে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। অসহনীয় দুর্ভোগে যাত্রীরা চলাচল করলেও প্রতিকার নেই।
ঈশ্বরদী জংশনে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস (আপ) নির্ধারিত সময় ১১টা ২০ মিনিট। গত ৩ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী জংশনে ট্রেন দাঁড় করিয়ে রূপসা এক্সপ্রেসের বগির নিচে মেরামত কাজ করতে দেখা যায়। ট্রেন পরীকক্ষ (টিএক্সআর)। প্রায় ৫০ মিনিট ট্রেনের বগির চাকা, টুলবক্স, বাফোর, ব্যাকাম, এয়ার সিলিন্ডার, স্পিরিং, সুইচবোর্ড, হোসপাইপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মেরামত করে। পরে দুপুর ২টার দিকে ট্রেনটি চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। গত ১০ ও ১১ ডিসেম্বর আপ রূপসা ঈশ্বরদী জংশনের ওপর দিয়ে প্রায় পাঁচ ঘন্টা বিলম্বে চলাচল করেছে বলে স্টেশন মাষ্টার মাহবুবা শাহীনুর নিশ্চিত করেছেন। খুলনাগামী ডাউন রূপসার ঈশ্বরদী জংশনে প্রবেশের সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে। ১০ ও ১১ ডিসেম্বর পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় ঘন্টা বিলম্বে এটি চলাচল করেছে।
খুলনা ও চিলাহাটির মধ্যে চলাচলকারী আপ ও ডাউন সীমান্ত এক্সপ্রেসেরও একই অবস্থা। সীমান্ত এক্সপ্রেস বেশ কিছুদিন থেকে এক থেকে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা বিলম্বে ঈশ্বরদী জংশনের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। চিলাহাটি হতে খুলনাগামী ডাউন সীমান্ত ঈশ্বরদী জংশনে প্রবেশের সময় ১২টা ১৫ মিনিটে। ৮ ডিসেম্বর রাক ১.২৫ মিনিট, ৯ ডিসেম্বর রাত ৪টা এবং ১০ ডিসেম্বর ৫.১০ মিনিটে প্রবেশ করে। আপ সীমান্ত ট্রেনটিরও একই অবস্থা।
খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী যাত্রী মোতাহার হোসেন বলেন, সকাল ৭টা ১০ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে ট্রেনটি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিলাহাটি পৌঁছানোর কথা। এখন ২টা বাজে, ট্রেন ঈশ্বরদীতে। চিলাহাটি যেতে আরও প্রায় ৫ ঘণ্টা সময় লাগবে। পথে স্টেশনে স্টেশনে ট্রেনের কোচ মেরামত করতে হয়েছে। কোচগুলো বেশ পুরাতন ও জরাজীর্ণ।
কয়েকজন রেল কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে জানান, রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন প্রতিদিনই মেরামত করতে হয়। যেকারণে ট্রেনটি বিলম্বে চলাচল করছে। বগিগুলো পুরোনো হওয়ায় নানা রকম ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। শুধু বগির সমস্যাই না, বগির ভেতরে ফ্যান, লাইট ও ওয়াশরূমেরও বেহাল দশা।
ঈশ্বরদী জংশনের ট্রেন পরীক্ষক (টিএক্সআর) আনোয়ার হোসেন বলেন, রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোচগুলো বেশ পুরোনো। ট্রেন চলার সময় ঝাঁকুনিতে কিছু কিছু যন্ত্রে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোচের নিচের যন্ত্রাংশে বারবার সমস্যা দেখা দেয়। তাই স্টেশনে এলে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন হলে মেরামত করা হয়।
স্টেশন মাস্টার মাহবুবা শাহীনুর বলেন, ‘প্রতিনিয়তই ট্রেনটি মেরামত করা হয়- এটা সবাই জানে। আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। এটি প্রকৌশল বিভাগ ভালো বলতে পারবে।
পাকশী বিভাগীয় যন্ত্র প্রকৌশলী (ক্যারেজ) মমতাজুল ইসলাম বলেন, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। আমরাও খুব চাপে আছি। চলতি মাসে রূপসা ও সীমান্ত এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনে নতুন কোচ সংযোগের পরিকল্পনা আছে।