রাশিয়া তাদের ২২২২০ প্রকল্পের অধীনে ষষ্ঠ ইউনিভার্সাল পারমাণবিক আইসব্রেকার স্ট্যালিনগ্রাদের নির্মান কাজ শুরু করেছে। সেন্ট পীটার্সবার্গের বাল্টিক শীপ ইয়ার্ডে আয়োজিত আইসব্রেকারটির কীল স্থাপন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রসাটমের মিডিয়া উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানিয়েছে।
জানা যায়, ১৯ নভেম্বরের প্রাক্কালে অনুষ্ঠানটি একটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৪২ সালের এই দিনে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর বিরুদ্ধে প্রথম উল্লেখযোগ্য কাউন্টার এটাক শুরু করে। অপারেশন ইউরেনাস শীর্ষক এই কাউন্টার এটাকের মাধ্যমে যুদ্ধের ইতিহাসে মোড় ঘুরে যায়।
ভ্লাদিমির পুতিন এসময় বলেন, “আমাদের সামনে যে কাজ রয়েছে, তা কোন অতিরঞ্জন ছাড়াই ঐতিহাসিক। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার অবস্থানকে সুদৃঢ় করতে, আমদের লজিস্টিক্স সম্ভাবনা বাস্তবায়ন এবং সেন্ট পীটার্সবার্গ ও ভ্লাডিভস্তকের মধ্যে সম্ভাবনাময় ট্রান্স-আর্কটিক পরিবহন করিডরের উন্নয়ন নিশ্চিত করা আমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।
রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, “আজকের দিনে আমাদের পরমাণু শক্তি সৃষ্টির একটি হাতিয়ার। মানুষের ও রাষ্ট্রের সেবায় পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকার পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত”।
রাশিয়া তাদের ২২২২০ প্রকল্পের অধীনে বিশ্বের সর্ববৃহত এবং সর্বাধিক ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু শক্তি চালিত আইসব্রেকারের একটি বহর নির্মান করছে। এই জাহাজগুলো নির্মানের মূল লক্ষ্য হলো সারা বছর ধরে নর্দান সী-রুটে পন্য পরিবহন এবং বৈজ্ঞানিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করা। এই আইসব্রেকারগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোর ডুয়েল-ড্রাফট নকশায় নির্মিত, যার ফলে জাহাজগুলো আর্কটিকের গভীর জলে এবং অগভীর নদীর মোহনায় চলাচলে সক্ষম। আইসব্রেকারগুলো তিন মিটার পুরু কঠিন বরফ কেটে সামনে অগ্রসর হতে সক্ষম।