‘ইলিশ কেনার সময় মানুষের টাকার অভাব হচ্ছে না। বিভিন্ন সাইজের ইলিশের দামও ভিন্ন। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৭০০ টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। সামর্থ্য অনুযায়ী গরীব-বড়লোক জোড়ায় জোড়ায় ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। শুনি মানুষের এখন টাকার খুব অভাব। কিন্তু ইলিশ কেনার সময়তো বোঝা যাচ্ছে না, মানুষের টাকার অভাব।’ রবিবার ( ৬ আগষ্ট) ঈশ্বরদী মাছ বাজারের খুচরা ইলিশ মাছ বিক্রেতা শাহীন এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। ইলিশ মাছ স্বাদে ও গুণে অতুলনীয়। শর্ষে ইলিশ, ইলিশ পোলাও, ইলিশ পাতুরি, ইলিশ ভাজা, ভাপা ইলিশ, স্মোকড ইলিশ, ইলিশের মালাইকারী- এমন নানা পদের খাবার এপার-ওপার বাংলার বাঙালির প্রিয়। এরই মধ্যে বাজার ইলিশ মাছে সয়লাব হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও মাছে-ভাতে প্রিয় বাংগালির ইলিশ মাছ কেনার সময় অভাবের কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে ঈশ্বরদী বাজারে দেখা যায়, বাজারে এখন প্রচুর ইলিশ। বিভিন্ন সাইজের ইলিশের সমারোহ চলছে বাজারগুলোয়। ঈশ্বরদী শহর ছাড়াও আশেপাশের হাটবাজারে, অলিগলি, পাড়া-মহল্লায় ফেরী করে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। বাজারে ৩৫০ গ্রাম ওজন থেকে শুরু করে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ ব্যাপক হলেও কেন নাগালের বাইরে ইলিশের দাম? ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৭০০ টাকা কেজি দরে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের এই দাম স্বাভাবিক নিয়মেই মাছের সাইজের ওপর নির্ভর। কেজিতে ৩টা ওঠে (জাটকা) এমন সাইজের ইলিশ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের দাম কেজিতে ১ হাজার ২০০ টাকা, এক কেজি ওজনের দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং দেড় কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে।
শরীফ চেয়াম্যানের মাছের আড়তের ম্যানেজার জাহাঙ্গির বলেন, সরবরাহ থাকলেও ভারতে রফতানির সুযোগ দেওয়ার কারণে বাজারে বড় সাইজের ইলিশের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। বড় সাইজের ইলিশই ভারতে বেশী রফতানি হচ্ছে। ব্যাপক চাহিদার কারণেই ছোট সাইজের ইলিশের দামও চড়েছে। বিগত ৩-৪ দিন ধরে বাজারের ৪-৫ জন আড়তদার প্রতিদিন ৩০ লাখ টাকার ইলিশ পাইকারি দামে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।