ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করা হবে। রবিবার (১৮ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এথবর জানা গেছে। পরের মাস অর্থাৎ মার্চে এই ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা পোষণ করছেন।
এরআগে শুক্রক্বার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে শুক্রবার সরকারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল আহমেদ পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা প্রকল্প সাইটে নির্মাণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন। প্রতিনিধিদল ট্রেনিং সেন্টার, মেইন কন্ট্রোল রুম, ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম, ওয়াটার সিস্টেম এবং কুলিং টাওয়ার পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পর্যবেক্ষণ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে। রসাটমের কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছে, আগামী মাসের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোড করা হবে। আর মার্চের শেষ দিকে সেখান থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রথম ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে উৎপাদন বৃদ্ধি করে প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎখাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসময় তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিযুক্ত কর্মী ও প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের একটি মেগা প্রকল্প, যা রূপপুরে অবস্থিত এবং নির্মাণকাজ সকল আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট রোসাটমের প্রকৌশলীরা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ এ ফুয়েল লোডিং করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, মার্চ ২০২৬ এর শেষ দিকে ইউনিট-১ হতে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির মাধ্যমে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-১ হতে কার্যকরভাবে প্রায় ১,১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।