ঈশ্বরদী উপজেলাজুড়ে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার প্রায় উধাও হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও তা নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না কার্যত ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা থাকলেও এলাকার অধিকাংশ খুচরা দোকানে মিলছে না বাসাবাড়িতে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার। এতে করে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আবার কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দিয়ে গোপনে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। সংকটের কারণে অনেক পরিবারকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আগে যেখানে সহজেই ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যেত, সেখানে এখন দিনের পর দিন খোঁজ করেও গ্যাস মিলছে না। আবার কোথাও পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ থাকলেও বাজার তদারকিতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গ্যাস বিক্রেতা কুন্ডু স্টোরের অভিজিৎ কুন্ডু জানান, কোম্পানি পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি এবং চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প যা আসছে মুহূর্তের মধ্যেই ন্যায্য দামে বিক্রি হচ্ছে। কবে।নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
ঈশ্বরদীতে বোতলজাত গ্যাসের এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।