ঈশ্বরদীতে মা কুকুরের অগোচরে আটটি কুকুরছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার নিশি রহমানের (৩৮) জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) পাবনা আমলি–২ আদালতের বিচারক তরিকুল ইসলাম তার জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৬ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ঈশ্বরদী পৌর শহরের রহিমপুর গার্লস স্কুলের পাশের একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে নিশি রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারায় মামলা করেন। মামলায় উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হাসানুর রহমানের স্ত্রী নিশি রহমানকে একমাত্র আসামি করা হয়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, অভিযুক্ত নারী গেজেটেড ভবনে জন্ম নেওয়া আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পাশের পুকুরে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন। মামলায় পশুর মূল্য চার হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারায় পঞ্চাশ টাকা বা তার বেশি মূল্যমানের পশু হত্যার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যায়।
জানা যায়, গত রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় এ অমানবিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে মা কুকুরটিকে আশপাশের বাসাবাড়ি ও অফিসার্স ক্লাব এলাকায় সারারাত ছানাদের খুঁজে বেড়াতে দেখা যায়। খাবার দিলেও সে মুখ দেয়নি।
ইউএনওর বাসভবনের কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর জানান, ছানাগুলো নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার সকালে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা হাসানুর রহমানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অজ্ঞতার কথা বলেন। তবে তাঁর শিশু সন্তান জানায়, “আম্মু কুকুরের বাচ্চাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দিয়েছে।” পরে পুকুরে গিয়ে মুখ বাঁধা বস্তা উদ্ধার হলে এর ভেতর ছানাগুলোর মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃত ছানাগুলো ইউএনওর বাসভবনের পাশে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় বইতে থাকে। মানবিকতা-বিরোধী এমন ঘটনার বিচার দাবি করেন অনেকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত পরিবারকে সোমবারই সরকারি কোয়ার্টার ছাড়তে বলা হয়েছিল এবং তারা বাসা ত্যাগ করেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় উপজেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।