ঈশ্বরদীতে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং উত্তরের হিমেল বাতাসের প্রভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষ।
পদ্মা নদীতীরবর্তী ঈশ্বরদী উপজেলায় শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও ঘন কুয়াশায় পুরো উপজেলা আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সেখানে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। কয়েক দিন ধরে বয়ে যাওয়া হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুষ্ক আবহাওয়া, বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং জেট বায়ু ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি নেমে আসার কারণেই তাপমাত্রা এতটা কমে গেছে।
তীব্র শীত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম। কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে আগুন পোহানোই তাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিবছর শীতের শুরুতেই দানশীল ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করা হলেও এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। ফলে পদ্মার চরাঞ্চলের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
হিমেল হাওয়ার কারণে খেটে খাওয়া অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতে কাবু হয়ে পড়েছে গৃহপালিত পশু-পাখিও। ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখছেন। এদিকে প্রচণ্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিশুরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
শীতের দাপটে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে অবস্থান করা ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট যেন আরও বেশি।
সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর মোল্লার চরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, নদীর পাড়ে বসবাস করায় ঠান্ডা বাতাসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং কাজ করতে পারছেন না।
একই এলাকার নাজমা আক্তার বলেন, “আমরা নদীভাঙনের শিকার মানুষ। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে নদী পার হয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসও আনতে পারছি না। ঘরে কম্বল নেই, পাতলা খেতাও ঠিকমতো গায়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”
শীত থেকে বাঁচতে অনেক মানুষ রাস্তার পাশে কিংবা খোলা স্থানে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। তীব্র শীতে কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বের হতে না পারায় অনেকের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা ও গরম কাপড় বিতরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, পরপর দুই দিন—রোববার ও সোমবার (২৯ ডিসেম্বর)—ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঝিরিঝিরি কুয়াশা ও দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের অনুপস্থিতির কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি উত্তরের হিমেল বাতাসের গতিও বেড়েছে। তিনি আরও জানান, শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং শুক্রবার ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।