মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে গুলিবিদ্ধ সজিবের দাদী মোছা. রিজিয়া খাতুন কেঁদে কেঁদে বিলোপ করে বলছিলেন, ‘তাগো গুলি লাইগা আমার নাতি হাসপাতালে ভর্তি। কি দোষ করছিলাম আমরা, কিয়ের লাইগা হেগো পাড়ায় আইয়া বাড়ি করছিল্যাম। গরিবদের উপর তাগো এত অত্যাচার কিয়ের লাইগা ? আমার নাতিডার উপর গুলি করবার বিচার চামু কার কাছে?
বুকে গুলি লাগা যুবক নিজামের মা কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার ছেলে তো তাদের কোন ক্ষতি করে নাই। তবে তারা কেন গুলি করলো? আমরা সাধারন মানুষ আমাদের উপর এত নির্যাতন কেন ? প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার বিচাই দাবি করছি ।
এ ব্যাপারে নবাগত ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। আমি একদমই নতুন, ঠিকমতো কোন বিষয়ই এখনও জেনে-বুঝে উঠতে পারি নাই। তবে শুনছি পদ্মারনদীর অভ্যন্তরে একটি গ্রুপ রয়েছে যারা বালুমহল দখলে নিতে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমি ইতিমধ্যে নৌ-পুলিশসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপকে বিষয়টি অবগত করেছি।
ঈশ্বরদী লক্ষিকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। বর্তমানে নদী এলাকায় আমাদের টহল টিম রয়েছে। আশা করছি এ ধরনের আর কোন ঘটনা ঘটবেনা।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর উপজেলার সাড়াঘাটের ক্যানেলপাড়া এলাকায় পদ্মার নৌ- চ্যানেলের খাজনা আদায়ের দ্বন্দ্বে ইজারাদার ও এটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহেদী হাসানের লোকজনের উপর অপর পক্ষ গ্রুপ অন সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী খান্দকার সোহেল গ্রুপের লোকজন অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। এতে স্থানীয় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে বর্তমানে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মহাখালী বক্ষব্যাধী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
হটাৎ করেই এমন গোলাগুলির ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আতংক বিরাজ করছে। যে কারনে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করে ভূক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।