ঈশ্বরদীতে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর প্রকোপ হঠাৎ করেই বাড়ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত সাত দিনে ঈশ্বরদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বেসরকারী ইমপিরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অন্তত ২১ জন চিকিৎসা নিয়েছে । আক্রান্তদের বেশির ভাগই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক বলে জানা গেছে।
পাবনা জেলার অন্য এলাকার চাইতে ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। প্রতিদিনই গড়ে ৩ থেকে ৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও আক্রান্তরা চিকিৎসা ও পরীক্ষা করতে ভীড় করছেন। জটিল রোগীদের পাবনা, রাজশাহী ও ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ও ডেঙ্গু ওয়ার্ডের প্রধান ডা. শফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, প্রতিদিনই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী আসছে। এ রোগের ধরনও পাল্টাচ্ছে। শরীরে ব্যথা, জ্বর কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ নিয়ে এলেই রক্তের ধারা (সিবিসি) পরীক্ষা করতে বলা হয়। রোগীর শরীরে প্লাটিলেটের পরিমাণ ৪৫ হাজারের নিচে হলে পাবনা, রাজশাহী কিংবা ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদীর ইমপিরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, আক্রান্ত রোগীদের বেশির ভাগই রূপপুর ও আশপাশের এলাকার। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আশেপাশে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা রয়েছে। এ পরিবেশ এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক। তাই এ এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রকল্পে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিদেশি কাজ করেন। তাদের আবাসন এলাকা গ্রীণ সিটিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। দেশি শ্রমিকদেরও নিজস্ব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।